রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি ছাড়াও উন্মুক্ত দরপত্রে সৌরবিদ্যুতে ব্যয় কমছে বিপিডিবির

দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিতে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বিগত সময়ের চেয়ে কমেছে।

দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিতে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ বিগত সময়ের চেয়ে কমেছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুতের প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টার গড় ট্যারিফ ৭ দশমিক ৮০ সেন্ট। যা বিশেষ আইনের আওতায় অনুমোদন পাওয়া সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফের চেয়ে আড়াই সেন্ট কম। এর আগে সৌরবিদ্যুতের অনুমোদিত গড় ট্যারিফ ছিল প্রায় সাড়ে ১০ সেন্ট। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাষ্ট্রীয় সভরিন গ্যারান্টির বাইরে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সভরিন গ্যারান্টি মানে হলো সরকার কোনো বিদ্যুৎ কোম্পানি বা প্রকল্পের ঋণের দায় নিজের কাঁধে নেয়। অর্থাৎ কোম্পানি যদি ঋণ শোধ করতে না পারে, তাহলে সেই টাকা সরকার পরিশোধ করবে—এটা আগে থেকে লিখিতভাবে গ্যারান্টি দেয়। বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা আমদানিনির্ভর প্রকল্পে, বিদেশী বিনিয়োগ ও ঋণ পেতে এ গ্যারান্টি অনেক সহায়তা করে। তবে বিশেষ আইন বাতিল হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুতের কোনো প্রকল্পে আর সভরিন গ্যারান্টি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্র ডাকা হয়, সেসব প্রকল্পের জন্য সরকারের থেকে আর কোনো গ্যারান্টি দেয়া হয়নি।

দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে মোট প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ৩৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) দেয় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ আইন বাতিল করায় এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আমলে এলওআই পাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ট্যারিফ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গড়ে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন হয় ১০ দশমিক ৪৭ সেন্ট। সম্প্রতি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ট্যারিফ অনুমোদন হয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গড়ে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা পড়েছে ৭ দশমিক ৮০ সেন্ট। অর্থাৎ উন্মুক্ত দরপত্রে ২ দশমিক ৬৭ সেন্ট কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্মুক্ত দরপত্রে সৌরবিদ্যুতের বিদেশী কোম্পানির অংশগ্রহণ কম হলেও স্থানীয় কোম্পানিতে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ আইনের অধীনে আগে ছিল না। সরকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ ও সহায়তা দিলে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

অনুমোদন পাওয়া ১২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেন্দ্রভেদে প্রতি কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ৬ দশমিক ৫ সেন্ট থেকে ৮ দশমিক ১৩ সেন্টের মধ্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকালের ডলার রেট (১ ডলার সমান ১২২ টাকা ২৪ পয়সা) অনুযায়ী সর্বনিম্ন দর ৭ টাকা ৯৪ পয়সা, সর্বোচ্চ ৯ টাকা ৯৩ পয়সা।

১২টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের গড় দাম পড়বে ৭ দশমিক ৮০ সেন্ট। টাকার হিসাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম পড়বে ৯ টাকা ৫৩ পয়সা। এর আগে বিশেষ আইনের আওতায় অনুমোদন পাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড় ট্যারিফ ছিল ১০ দশমিক ৪৭ সেন্ট। টাকার হিসাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ১২ টাকা ৭৯ পয়সার বেশি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির ঊর্ধ্বতন দুজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মূলত উৎপাদন খরচের বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দরপত্রে অনেক ধরনের দাম দেখা গেছে। সেখান থেকে সর্বনিম্ন দরকে প্রাধ্যান্য দিয়ে ট্যারিফ চুক্তি হয়েছে। এখন এসব কেন্দ্র বাস্তবায়ন করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ সর্বনিম্ন দামে কেনা যাবে। আরো সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বান করা হবে।’ সৌরবিদ্যুতের এবারের উন্মুক্ত দরপত্রে যৌথ ও এককভাবে মোট ৪০০ মেগাওয়াটের কাজ পেয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ। এর মধ্যে তিন প্রকল্প থেকে ২০ বছর মেয়াদে মোট ১৫ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিপিডিবি। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বাগেরহাট জেলায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে কনফিডেন্স। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে সরকার সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাবে বলে মনে করেন কনফিডেন্স পাওয়ারের শীর্ষ নির্বাহীরাও।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমরান করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতে বিপিডিবির এবারের দরপত্র অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ ছিল এবারের দরপত্র। যেখানে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প এগিয়ে নিতে হলে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা প্রয়োজন। তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। এখন আমরা এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) জন্য অপেক্ষা করব। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে।’

কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে ২০ বছর মেয়াদে মোট ৭ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে কেন্দ্রটির লেভেলাইজ ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ট্যারিফ ৭.৭৫ সেন্টে (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৪৮ পয়সা) অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কনফিডেন্স পাওয়ার কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালীতে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের আরো একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। ২০ বছর মেয়াদে এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। এতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৯ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৮৯ পয়সা)। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিতে গত ৯ ডিসেম্বর ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়।

যৌথভাবে বাগেরহাটের মোংলার বুড়িরডাঙ্গায় ১০০ মেগাওয়াট (এসি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া ইউনিট-২ লিমিটেড এবং এশিয়ান এনটেক পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেড। কেন্দ্রটি থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিপিডিবির বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় হবে ৪ হাজার ১৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৯ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৮৯ পয়সা)।

পাবনায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি। এ কেন্দ্র নির্মাণ করবে যৌথভাবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড (পিটিএল) ও প্যারামাউন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড (পিএইচএল)। এটি বাস্তবায়িত হলে ৬ হাজার ৩২১ কোটি ৭১ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। কেন্দ্রটির লেভেলাইজ ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা ৭ দশমিক ৮৯ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৬৬ পয়সা)।

পিটিএল ও পিএইচএল যৌথভাবে আরেকটি ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে মৌলভীবাজারে। এ কেন্দ্র থেকে মোট ১ হাজার ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। কেন্দ্রটির প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ সেন্ট (৯ টাকা ৩৪ পয়সা)।

পিটিএল ও পিএইচএল যৌথভাবে পাবনার হেমায়েতপুরে ৭০ মেগাওয়াট (এসি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। ২০ বছর মেয়াদি এ কেন্দ্র থেকে বিপিডিবি ২ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে। প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৭ দশমিক ৯ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৬৬ পয়সা)।

মাহিন ও ভিদুলংকা যৌথভাবে নোয়াখালীর সুধারামে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। কেন্দ্রটি থেকে বিপিডিবি মোট ৩৯৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে। যার প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৭ দশমিক ৪৯ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১৬ পয়সা)

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৮ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে কনসোর্টিয়াম অব এফজিএল, এফএইচএল অ্যান্ড জিবিবি। কেন্দ্রটি থেকে ৭৫৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৯৭ সেন্ট (প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ৭৪ পয়সা)।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কর্ণফুলী-ইনফ্রাকো কনসোর্টিয়াম ৪৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। যার প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ ৭ দশমিক ৭৭ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৫০ পয়সা)।

নীলফামারী জেলার জলঢাকায় ৫০ মেগাওয়াট একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে মোট ২ হাজার ১৬৩ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ৮ দশমিক ৪ সেন্ট (১০ টাকা ২৭ পয়সা)।

কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিয়ায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে চায়না নর্থইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভিসেস-বিএম স্টার ট্রেড লিমিটেড (জেভি অব এনইপিসিএস-বিএমএসটি)। কেন্দ্রটি থেকে বিপিডিবি ৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ কিনবে। কেন্দ্রটির প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ৬ দশমিক ৫ সেন্ট (প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ৯৫ পয়সা)।

আরও